ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৭/১২/২০২৪ ৭:৩১ পিএম

কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে অবৈধ দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা একদিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে বসানো ঝিনুক মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে গিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী এমন নির্দেশ দেন।

 

এ সময় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়ে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে গিয়ে দোকানের মালিক ও হকারদের নিজ দায়িত্বে মালামাল সরিয়ে নিতে মাইকিং করে এই আহ্বান জানান ইউএনও।


অভিযানের বিষয়ে নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশে সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে সব ধরনের স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ আদেশ অনুযায়ী সৈকতের দখল ছেড়ে দিতে সবাইকে আহ্বান জানায় জেলা প্রশাসন।


ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করছেন জানিয়ে ইউএনও বলেন, ‘তারা এরই মধ্যে অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নিতে কাজ করছেন। সৈকতের লাবণী থেকে কলাতলী পর্যন্ত অন্তত ৫০০ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।’
এ দিকে কোনো ধরনের পুনর্বাসন ছাড়া এবং আগে থেকে নোটিশ না দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঝিনুক ব্যবসায়ীসহ সাগরপাড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

তারা জানান, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে তারা বৈষম্যের শিকার। জোয়ার-ভাটায় সাগরের ঢেউয়ের যাতায়াত স্থান থেকে ৩০০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত কোনো স্থাপনা না রাখার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ওই দূরত্বে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা থাকলেও তা উচ্ছেদে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই।

স্থানীয়রা জানান, ৫ অগাস্ট সরকার পরিবর্তনের পর কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের বেলাভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ২০টি দোকান। এই পয়েন্টের সড়ক, ফুটপাত ও বালিয়াড়িতে বসানো হয়েছে ২০০ ভ্রাম্যমাণ হকার। এর দক্ষিণ পাশে কলাতলী পয়েন্টের ‘সি ক্রাউন হোটেলের’ সামনে তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি দোকান। মেরিন ড্রাইভের ইনানী সৈকতের বেলাভূমিতে অন্তত ৩০টি রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে
এ ছাড়া দরিয়ানগর, হিমছড়ি, সালসা বিচ, পাটুয়ারটেকসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

সরকার কক্সবাজারের সৈকত এলাকায় প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে। এই গেজেট অনুযায়ী সৈকতের বেলাভূমিতে স্থাপনা নিষিদ্ধ। কিন্তু আইন না মেনে দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকায় ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সৈকতের জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী লাইন থেকে প্রথম ৩০০ মিটার ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ উল্লেখ করে এ এলাকায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেয় উচ্চ আদালত।

সম্প্রতি হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের জন্য বেলার পক্ষে নোটিশ দেয়া হলে একদিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নিদের্শ দেয় জেলা প্রশাসন

পাঠকের মতামত

উখিয়ায় পিতার অবৈধ অস্ত্রের গুলিতে শিশু সন্তান গুলিবিদ্ধ: পিতা আটক

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজের হাতের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে এক শিশু সন্তান গুরুতর আহত ...

মাতারবাড়ি আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। ...

কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেলিং বন্ধে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পরিচালিত প্রাণঘাতী, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ প্যারাসেলিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ, সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের বিরুদ্ধে ...
Single Page Footer